নাটকের দৃশ্যে খাঁচাবন্দি টিয়া পাখি দেখানোর কারণে নাট্যনির্মাতা অনন্য ইমনের বিরুদ্ধে ১৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা দায়ের করেছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ‘বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট’। এ নিয়ে আলোচনা কম হয়নি। সম্প্রতি ‘হাওয়া’ সিনেমায় খাঁচাবন্দি শালিক পাখি প্রদর্শন ও হত্যার অভিযোগে পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমনের বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সর্বস্তরের শিল্পী-কুশলীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বিষয়টি নিয়ে সাংগঠনিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে টেলিভশন নাটকের শিল্পীদের সংগঠন অভিনয় শিল্পী সংঘ। বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে নির্মাতা, শিল্পী-কুশলীরা। এরই মধ্যে জানা গেলো, বন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেছেন টেলিভিশন নাটকের পরিচালকদের সংগঠন ‘ডিরেক্টরস গিল্ড’।
এ বৈঠকে ডিরেক্টরস গিল্ডের নেতৃবৃন্দ চারটি দাবি উত্থাপন করেন। তা হলো—এক. নাট্যনির্মাতা অনন্য ইমন আর চলচ্চিত্র পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমনের উপর দায়ের করা মামলার দ্রুত সমাধান করা। কোন ধারায় কোটি টাকার মামলা হলো, তা আমাদের অবগত করা। দুই. নাটক/ সিনেমায় বন্যপ্রাণী বিষয়ক আইনের যদি কোনো ধারা অমান্য করা হয়, তখন সরাসরি মামলা না করে যথাযথ ব্যক্তি/সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে সুরাহা করা।
তিন. নাটক/সিনেমায় গল্পের বিশেষ প্রয়োজনে বন্যপ্রাণী দেখানোর প্রয়োজন হলে, বন অধিদপ্তরের ওয়ান স্টপ সার্ভিস পয়েন্ট চালু করা, যেন নির্মাতা/প্রযোজক বন্যপ্রাণী ব্যবহারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেতে পারে। চার. অতিদ্রুত স্টেক হোল্ডার (পরিচালক, প্রযোজক, রাইটারদের সঙ্গে করে বন অধিদপ্তরের একটা গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করা। যেখানে আলোচনা হবে, কি কি দেখানো যাবে, আর কি কি দেখানো যাবে না। যে সব বণ্যপ্রাণী দেখানো যাবে না, তা দেখাতে হলে কি কি করতে হবে। এই আলোচনায় দেশের বিশিষ্ট্য গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন। গোল টেবিল শেষে প্রেস ব্রিফিং করা হবে।)
এসব বিষয় উত্থাপনের পর বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সাধুবাদ জানান। পাশাপাশি তারা এই চারটি দাবির বিষয়ে বলেন, এক. মামলা হয়ে গিয়েছে, এখন এই মামলা কোর্ট ফয়সালা করবে। সেখানে বন অধিদপ্তর তাদের আইনজীবী নিয়োগ করবে না। দুই. গল্পে যদি বন্যপ্রাণী বিষয়ে কোনো ঘটনা থাকে, তাহলে তা আগে থেকে বন অধিদপ্তরের সঙ্গে করলে তারা পরামর্শ দেবেন। তিন. ওয়ান স্টপ সার্ভিস পয়েন্ট চালু করার বিষয়টি নিয়ে কাজ করবে বন অধিদপ্তর। চার. বৈঠকের বিষয়ে ডিরেক্টরস গিল্ড থেকে একটি লিখিত চিঠি চেয়েছে, তারপর অতিদ্রুত বৈঠকের আয়োজন করবে।
এর আগে ডিরেক্টরস গিল্ডের পক্ষ থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে সেই চিঠির বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—বন অধিপ্তরের পরিচালক, বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের প্রধান এবং তার টিম, জনসংযোগ কর্মকর্তা, ডিরেক্টরস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদকসহ একটি প্রতিনিধি দল।