অভিনয়জগৎকে ঘিরে নানা গুঞ্জন ও বিতর্কের মাঝেই নিজের ১৪ বছরের ক্যারিয়ার নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি ব্যক্তিগত জীবন, অভিনয়জীবনের উত্থান-পতন এবং তাঁকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া নানা গুজবের জবাব দিয়েছেন।
ফারিয়ার দাবি, মিডিয়ায় দীর্ঘ সময় কাজ করলেও কখনোই কেউ তাঁকে সরাসরি বা ইঙ্গিতে কোনো আপত্তিকর কিংবা খারাপ প্রস্তাব দেওয়ার সাহস পায়নি।
স্ট্যাটাসে অভিনেত্রী জানান, ২০১২ সালে পড়াশোনার পাশাপাশি ফটোশুট ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন তিনি। ২০১৩ সালে প্রথম টেলিফিল্মে অভিনয় করলেও পরিবারের সিদ্ধান্তে স্নাতক শেষ না করা পর্যন্ত অভিনয় থেকে দূরে থাকতে হয়।
২০১৫ সালে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ২০২০ সাল পর্যন্ত নিয়মিত অভিনয় করেন শবনম ফারিয়া। তবে করোনাভাইরাস মহামারি, একই বছরের বিবাহবিচ্ছেদ এবং পলিসিস্টিক ওভেরিয়ান সিনড্রোম (পিসিওএস)-এর কারণে ওজন বেড়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে অভিনয় থেকে বিরতি নেন। পরে মাস্টার্স শেষ করে একটি চাকরিতেও যোগ দেন।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ফারিয়া লেখেন, “আমি অনেক বড় গলায় বলতে পারি, এই দীর্ঘ ১৪ বছরে কেউ কোনো দিন, সরাসরি কিংবা আকারে-ইঙ্গিতে, আমাকে কোনো খারাপ প্রস্তাব দেয়নি কিংবা দেওয়ার সাহস পায়নি। আমি বিশ্বাস করি, আমি কাকে আমার কাছে কতটুকু অ্যাক্সেস দেব, সে ঠিক ততটুকুই পৌঁছাতে পারবে।”
তিনি আরও বলেন, মিডিয়ার অধিকাংশ মানুষ তাঁকে স্নেহ করেন। এমনকি ২০১৯ সালে তাঁর বিয়ে ইন্ডাস্ট্রির মানুষের জন্য এক ধরনের উৎসবে পরিণত হয়েছিল এবং সহকর্মীরা আন্তরিকভাবেই সেই আনন্দে শামিল হয়েছিলেন।
নিজের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রচলিত ধারণার কথাও উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী। তাঁর ভাষ্য, মিডিয়ায় তাঁর বদনাম ছিল তিনি রাগী। তবে এর বাইরে তাঁকে ঘিরে যেসব অভিযোগ ছড়ানো হয়, সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করেন তিনি।
কাজের ধরন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শবনম ফারিয়া বলেন, তিনি সবসময় ‘ডিরেক্টরস আর্টিস্ট’ হিসেবে কাজ করেছেন। কাজের বিষয়ে কখনোই প্রযোজকদের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ রাখেননি; পরিচালকের মাধ্যমেই সব ধরনের যোগাযোগ হয়েছে।
একই স্ট্যাটাসে পরিচালক-প্রযোজকদের ব্যক্তিগত পার্টি নিয়ে সমাজে প্রচলিত ধারণাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেন তিনি। ফারিয়ার দাবি, বাস্তবে অধিকাংশ নির্মাতাই কাজ নিয়ে এতটাই ব্যস্ত থাকেন যে এমন আয়োজনের সুযোগ খুব কমই হয়।
সবশেষে গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়ে অভিনেত্রী বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে কেউ মিথ্যা অভিযোগ তুললে প্রয়োজন হলে স্ক্রিনশট, কল রেকর্ডসহ প্রমাণ প্রকাশ করবেন। এমনকি পরিস্থিতি তৈরি হলে আইনের আশ্রয় নিতেও দ্বিধা করবেন না।
সমালোচকদের উদ্দেশে তাঁর শেষ বার্তা, কোনো ভিত্তিহীন গুজব ছড়ানোর আগে মিডিয়ায় কাজ করেন এমন মানুষের কাছ থেকে তাঁর সম্পর্কে সত্যতা যাচাই করে নেওয়া উচিত।