দেশের বিভিন্ন জেলায় আবারও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, সিলেট ও হবিগঞ্জসহ একাধিক জেলা পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও পাহাড়ধস, কোথাও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত জনজীবন। এই দুর্যোগে লাখো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন, প্রাণহানির সংখ্যাও ছাড়িয়েছে অর্ধশত।
এমন পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন দেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও। গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছেন তারা।
এবার নাটকের জনপ্রিয় অভিনয়জুটি নিলয় আলমগীর ও জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি শুধু মানুষের নয়, দুর্যোগে আটকে পড়া অসহায় পশুপাখির প্রতিও সহমর্মিতা দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার নিজের ফেসবুক পোস্টে নিলয় আলমগীর লেখেন, “বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। মহান আল্লাহ যেন সবাইকে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করার শক্তি দেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর কারও হাত নেই। কিন্তু শহর ও শহরের আশপাশে বারবার কেন বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে, তার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “এই কঠিন সময়ে আসুন, আমরা সবাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াই। শুধু মানুষ নয়, অসহায় পশুপাখি—কুকুর, বিড়ালসহ সব প্রাণীর প্রতিও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিই। তারাও এই দুর্যোগের শিকার।”
একই দিনে অভিনেত্রী হিমিও নিজের ফেসবুক পোস্টে একই বার্তা দেন। তিনি লেখেন, “এই কঠিন সময়ে আসুন, আমরা সবাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াই। একই সঙ্গে ভুলে যাবেন না, এই দুর্যোগে অসহায় পশুপাখিও সমানভাবে বিপদে পড়েছে। কুকুর, বিড়ালসহ সব প্রাণীই ক্ষুধা, তৃষ্ণা আর আশ্রয়হীনতার কষ্টে দিন পার করছে। তাদের প্রতিও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিই।”
হিমি আরও বলেন, “মানুষের প্রতি মানবতা আর সকল প্রাণীর প্রতি মমত্ববোধ—এই দুইটিই হোক আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। মহান আল্লাহ যেন সবাইকে নিরাপদ রাখেন এবং এই দুর্যোগ দ্রুত কাটিয়ে ওঠার তাওফিক দান করেন। আমিন।”
উল্লেখ্য, চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মেহজাবীন চৌধুরী, নুসরাত ফারিয়া, ইরফান সাজ্জাদ, তানজিম সাইয়ারা তটিনী, সাবরিনা পড়শীসহ শোবিজের আরও অনেক তারকা। কেউ সচেতনতার বার্তা দিচ্ছেন, কেউ আবার বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন।